Ticker

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Responsive Advertisement

বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ বনাম বাস্তবতা: কেন আমরা সত্যের চেয়ে বিদ্রুপকেই বেছে নিই?


 

জেবা আমিনা খান নামে বিএনপির এই সংসদ সদস্য দু'দিন আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিলেন। সংসদে তার বক্তব্যের অংশবিশেষ নিয়ে প্রচুর ট্রল ও বিদ্রুপ হয়েছিল।


ফলে এখন সংসদে ঢুকতে, বের হতে কিংবা কোনো ইভেন্টে গেলে সর্বদা ক্যামরার লেন্স থাকে তার দিকে তাক করা, যা কিনা বাংলাদেশে মোবাইল সাংবাদিকতার বর্তমান ট্রেন্ড। 


কোনো নারী ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক, যেভাবেই হোক ভাইরাল হওয়ার পর সাংবাদিকের ক্যামরা তার পিছে পিছে, বিভিন্ন এঙ্গেল থেকে ক্লিপ ধারণ করা হয়, অল্পদিনে বিষিয়ে তোলা হয় তার জীবনকে। 


এই ভদ্রমহিলার জন্য খারাপ লাগছে যে কয়দিন পরই তার জীবনও জাহান্নাম বানিয়ে ফেলবে মোবাইল সাংবাদিকরা।


নির্বাচনী স্টেটমেন্ট চেক করে দেখলাম, বয়স ৬৪ বছর। এ বয়সে উনাকে নিয়ে যেভাবে স্লাটশেমিং করা হচ্ছে, তা সভ্য সমাজে অকল্পনীয়। তিনি একজন সিঙ্গেল মাদার।


মূল আলাপে আসি।


উনার সেদিনের বক্তব্যটা মাত্রই পুরোটা শুনলাম। তাজ্জব হলাম যিনি এপ্রিশিয়েট পাওয়ার কথা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে সরকারের মনোযোগ বৃদ্ধির করার কথা বলে, উলটো মাত্র কয়েক সেকেন্ডের অংশবিশেষ কেটে তার বাংলা-ইংরেজি সংমিশ্রণ ভাষার শব্দচয়ন ঢালাওভাবে শেয়ার করে তাকে বানানো হলো হাসিঠাট্টার খোরাক। এটাই দেশে মিডিয়ার বর্তমান হালহকিকত। 


উনি সেদিন ডে কেয়ার নিয়ে কথা বলেছেন, মন্টেসরি শিক্ষা ও এর গুরুত্ব নিয়ে আলাপ করেছেন; বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রতি রাষ্ট্র বেশি যত্নশীল হওয়ার জন্য গুরুত্বারোপ করেছেন। নিজের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মেয়ের উদাহরণ দিয়ে তিনি বুঝিয়েছেন। 


বক্তৃতাটা যেহেতু বাজেট আলোচনার অংশ, তাই বক্তৃতার এক অংশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিয়ে এলাকার রাস্তার বেহাল অবস্থার কথা ইংরেজিতে বলতে গিয়ে কাঁচা রাস্তা কথাটা বাংলায় বলে ফেলছেন ইংরেজি শব্দার্থ হয়ত তাৎক্ষণিক মাথায় না আসায়। 


সাড়ে ৯ মিনিটের বক্তব্য থেকে জাস্ট কয়েক সেকেন্ডের এই বাক্যটিই পিক করে যেভাবে নোংরামি হলো ষাটোর্ধ এ নারী রাজনৈতিককে নিয়ে, তা ভাবনাতীত। এসব জাতিগতভাবে আমাদের মানসিক বিকারগ্রস্ততার অন্যতম নমুনা। 


এটা ঠিক যে, উনি পুরোটাই ইংরেজি বললে ভালো হতো বা বাংলায় বললে। এভাবে ভাষার সংমিশ্রণ শুনতে কটু লাগে।কিন্তু তিনি এমন কিছু করেন নাই যে, তাকে নিয়ে এতোটাই বিদ্রুপ করতে হবে। উনার ব্যাকারণগত কোন ভুল ছিল না, জাস্ট রাস্তার বেড সিচুয়েশনটাকে বাংলায় বুঝিয়েছেন।


মজার বিষয়, একইদিন বিরোধীদলের আরেকজন সদস্যও ইংরেজিতে বক্তব্য দেওয়ার ট্রাই করেছেন, উনার ইংরেজির অবস্থা ছিল ভয়াবহ। সেটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া নিরব।


ইউটিউব ঘেঁটে আমি ভদ্রমহিলার পুরোনো এক ইন্টারভিউ পেলাম বিদেশি মিডিয়ায়। দেখি খুবই কনফিডেন্সের সঙ্গে ফ্লুয়েন্টলি ইংরেজিতে ইন্টারভিউ দিয়েছেন।


উনি সম্ভবত বাহিরে পড়ালেখা করেছেন। একারণে বাংলায় বোধহয় পুরোপুরি বলতে গিয়ে ইংরেজি বেশি চলে আসে। এটা দোষের কিছু নয়। আমরাও প্রতিনিয়ত বাংলার ফাঁকে ফাঁকে ইংরেজি বলি; আর উনি ইংরেজির ফাঁকে বাংলা শব্দ বলেছেন, এটাই পার্থক্য এটাই।


উনার পুরো বক্তব্য মানুষের সামনে প্রেজেন্ট করতে পারলে এতোটা হাসিঠাট্টার খোরাক হতেন না, এমনকি বিরোধীদল সমর্থকদের নোংরামিও বেশিক্ষণ টিকতো না। আপসোস, সেই কাজটা বিএনপির নেতা-কর্মীরা করতে পারলেন না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ